দীর্ঘ পাঁচ বছরের দীর্ঘায়িত ও জটিল আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে নিজ পদে পুনর্বহাল হলেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ৫ নং গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হজরত আলী। গত ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মজিবর রহমান এবং আনারস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন হজরত আলী। নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, ১ নং ফরাদপুর সবুজ সংঘ ও পাবলিক লাইব্রেরি কেন্দ্রে হজরত আলীকে পরাজিত করার লক্ষ্যে তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী ও উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মশিউর রহমান যোগসাজশ করে এক অভূতপূর্ব অনিয়মের আশ্রয় নেন। প্রকৃতপক্ষে উক্ত কেন্দ্রে হজরত আলী আনারস প্রতীকে ১২৭০ ভোট এবং নৌকা প্রতীকের মজিবর রহমান ৬৩৫ ভোট পান। তবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ব্যালট বাক্স নিয়ে গিয়ে হজরত আলীর প্রাপ্ত ভোট ১২৭০-এর স্থলে ৯৭০ এবং মজিবর রহমানের ৬৩৫ ভোটের জায়গায় ৯৩৫ দেখিয়ে মজিবর রহমানকে ৮৭ ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর এই বিতর্কিত ফলাফলের ভিত্তিতে গেজেট প্রকাশ করা হয়।
পুরো ইউনিয়নের ১০টি কেন্দ্রে মোট ১৯,০৮৮টি ভোট সংগৃহীত হয়, যার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হজরত আলী আনারস প্রতীকে মোট ৯,৮০১ ভোট পেয়ে প্রকৃতপক্ষে ৫১৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন এবং নৌকা প্রতীকের মজিবর রহমান পান ৯,২৮৭ ভোট। জনগণের প্রকৃত রায় ছিনতাই হওয়ার পর হজরত আলী মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন, যার ধারাবাহিকতায় মামলাটি রাজশাহী নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। দীর্ঘ শুনানি ও তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনার পর সম্প্রতি রাজশাহী সদর সিনিয়র জজ আদালত ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল একটি ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। বিজ্ঞ আদালত তাঁর সংক্ষিপ্ত রায়ে উল্লেখ করেন, “দোতরফা সূত্রে ডিক্রি। গোদাগাড়ী উপজেলার ৫নং গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ১নং প্রতিপক্ষ মোঃ মজিবুর রহমানকে বিজয়ী ঘোষণা সংক্রান্তে গত ৭ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখের প্রকাশিত গেজেট বাতিল ঘোষণা করা হলো। অত্র মামলার দরখাস্তকারী মোঃ হজরত আলীকে ৫ নং গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হলো।” একই সাথে আদালতের নির্দেশনার কপি দ্রুত নির্বাচন কমিশনে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে হজরত আলীর আইনজীবী আব্দুল হামিদ জানান, ২০২১ সালের দ্বিমুখী নির্বাচনে চরম ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মজিবর রহমানকে বিজয়ী দেখানো হয়েছিল। সংক্ষুব্ধ প্রার্থী সত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইনি পথ বেছে নিয়েছিলেন এবং আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে, গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব আশরাফুজ্জামান মল্লিক এই রায়কে সত্যের জয় হিসেবে আখ্যায়িত করে স্বস্তি প্রকাশ করেন। অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে পুনর্বহালকৃত চেয়ারম্যান হজরত আলী বলেন, তিনি দুই বার এই ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মধ্যরাতে জনগণের রায় পরিবর্তন করে তাঁর বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিল। দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে ন্যায়বিচার পেয়ে তিনি ও তাঁর এলাকার সাধারণ জনগণ অত্যন্ত আনন্দিত ও উৎফুল্ল।