গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ধীরাশ্রম বুড়ি বটতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হ’ত্যা, ডাকাতি ও একাধিক মামলার অভিযুক্ত দু’র্ধ’র্ষ ‘রহিম বাহিনী’র প্রধানসহ চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে দেশীয় ধারালো অ’স্ত্র ও ইয়াবাসহ তাদের আইনের আওতায় আনা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—পশ্চিম ধীরাশ্রম এলাকার ইউনুস ডাক্তারের ছেলে এবং বাহিনীর প্রধান আব্দুর রহিম (২৮), তার ছোট ভাই আব্দুর রাব্বি (২২), পশ্চিম সামান্তপুর এলাকার ইমরান হোসেনের ছেলে শান্ত (১৯) এবং ধীরাশ্রম এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে নাহিদ (৩২)। পুলিশ জানায়, কু’খ্যাত অপরাধী রহিমের বি’রুদ্ধে মহানগরের বিভিন্ন থানায় হ’ত্যা, ডাকাতি ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অভিযানকালে রহিম বাহিনীর প্রধানের কাছ থেকে দেশীয় ধারালো অ’স্ত্র ও ৩০ পিস ইয়াবা উ’দ্ধার করা হয় এবং অন্য তিন সহযোগীকে ধারালো অ’স্ত্রসহ মাদক চালানের স’ম্পৃক্ততায় গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রহিম ও তার ভাই রাব্বির নেতৃত্বে ধীরাশ্রম ও আশপাশের এলাকায় এক আতঙ্কের রাজত্ব গড়ে উঠেছিল। তাদের স’ন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতি’ষ্ঠ হলেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পেত না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, সম্প্রতি এক যুবককে তিন দিন আটকে রেখে নির্যাতনের পর মুক্তিপণ দাবি করে এই চক্র। দাবিকৃত অর্থ না পাওয়ায় তার স্বজনদেরও রশি দিয়ে বেঁধে মারধর ও লুটপাট চালানো হয়। তবে চক্রটির অন্যতম সহযোগী, ইজিবাইকে অ’স্ত্র ও মাদক সরবরাহকারী গাছা থানার বসুরিয়া এলাকার মিলন মিয়ার ছেলে রানা এখনও অধরা রয়েছে।
দু’র্ধ’র্ষ এই সন্ত্রাসী চক্র গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। স্থানীয়রা রহিম বাহিনীর বি’রুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান এবং অপরাধ দমনে আইনশৃ’ঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক সহায়তা প্রত্যাশা করেন।
এ বিষয়ে গাজীপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বি’রুদ্ধে নতুন করে অ’স্ত্র ও মাদক আইনে মামলা [মামলা নং ৪৪(৭)২০২৬] রজু করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাফাটকে পাঠানো হয়েছে।