টানা দুই দিনের (বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার, ০৯-১০ জুলাই) অবিরাম ও ভারী বর্ষণে তীব্র জলজটের কবলে পড়েছে গাজীপুর মহানগরী। শহরের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি এবং বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এখন পানির নিচে। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে এক নজিরবিহীন অচলাবস্থা। আকস্মিক এই জলাবদ্ধতায় হাজার হাজার পরিবার কার্যত পানিবন্দি হয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, মহানগরের বর্তমান ড্রেনেজ ব্যবস্থা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল, যার কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। এমনকি অনেক জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এখনো কোনো কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনাই গড়ে ওঠেনি। এর ফলে সামান্য ভারী বৃষ্টি হলেই বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে এবং দিন দিন এই জনভোগান্তি কেবল বেড়েই চলেছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই নাগরিকদের এই চরম সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। বারবার একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটলেও স্থায়ী নিরসনে এখন পর্যন্ত কোনো টেকসই উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
ক্ষুব্ধ নাগরিকদের মতে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন যদি পরিকল্পিত উপায়ে প্রাকৃতিক খালগুলো উদ্ধার, ড্রেন সংস্কার এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ না করে, তবে আগামী দিনে এই পরিস্থিতি আরও বেশি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
এই সংকটের বিষয়ে গাছা থানা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সজিব আহম্মেদ শাহীন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে বলেন, “ইউনিক ওয়াশিং এবং রূপা গার্মেন্টস খালের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং এর সরাসরি খেসারত হিসেবে পুরো এলাকায় এই তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নাগরিক দায়িত্ব থেকে নিজ ব্যক্তিগত উদ্যোগে পানিবন্দি অসহায় মানুষদের মাঝে খিচুড়ি বিতরণের ব্যবস্থা করেছেন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে তার একদল কর্মী বিভিন্ন প্লাবিত এলাকায় সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন। তবে খাল দখলের এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রসঙ্গে ইউনিক ওয়াশিং, রূপা গার্মেন্টস কিংবা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।