মাদারীপুরে ১১ বছর বয়সী বুদ্ধি ও বাক্প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা আলোচিত মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে এই মামলার রায় ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আসামিপক্ষের পক্ষ থেকে বাদীপক্ষকে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে আসামির মানসিক অসুস্থতা সংক্রান্ত পুরোনো কিছু কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে বলে গুঞ্জন ওঠায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র প্রশ্ন ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর (লক্ষ্মীগঞ্জ) এলাকায় নিজ বাড়িতে ১১ বছর বয়সী ওই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে একই এলাকার মৃত সিরাজ বেপারীর ছেলে সুমন বেপারীর (৩০) বিরুদ্ধে। ঘটনার দুই দিন পর পিরোজপুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার তদন্তে সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে ভিকটিমের নমুনার সঙ্গে আসামির ডিএনএ প্রোফাইলের মিল পাওয়া গেছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত কার্যক্রম শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, আসন্ন রায় ঘোষণার আগেই আসামিপক্ষ পুরোনো তারিখের বেশ কিছু মানসিক সমস্যাসংক্রান্ত চিকিৎসাপত্র একত্র করে আদালতে দাখিলের পাঁয়তারা করছে। এর মাধ্যমে অভিযুক্তকে মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে দেখিয়ে আইনি শাস্তি থেকে বাঁচানোর বা সাজা কমানোর সুযোগ তৈরি করা হতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে জমা দিতে চাওয়া এসব কাগজের চিকিৎসাগত সত্যতা ও বৈধতা নিয়ে বাদীপক্ষ পুরোপুরি সন্দিহান।
অন্যদিকে স্থানীয় নারী-পুরুষের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তির মানসিক অসুস্থতার কোনো বিষয় তাঁদের জানাশোনা নেই। এলাকাবাসীর বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতে এক তরুণীকে উত্ত্যক্ত করার জেরে স্থানীয়দের গণপিটুনি ও ধারালো অস্ত্রের কোপে তাঁর হাতের আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এছাড়া গাছ থেকে পড়ে গিয়ে তাঁর পায়েও আঘাত লেগেছিল। এসব শারীরিক আঘাত বা দুর্ঘটনার সঙ্গে মানসিক অসুস্থতার বিন্দুমাত্র কোনো সম্পর্ক নেই বলেই তাঁদের অভিমত।
এলাকার সর্বস্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। তাঁদের জোরালো প্রত্যাশা, যেকোনো ধরনের অনৈতিক প্রভাব বা চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে আদালত সকল সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন। পাশাপাশি বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত বাদীপক্ষের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুমন বেপারীর স্বজনদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।