গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা (দক্ষিণ) বিভাগের একটি চৌকস দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পরিচয়দানকারী এক কুখ্যাত প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে। আইনশৃ’ঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই প্রতারণার অবসান ঘটিয়ে আসামির কাছ থেকে ৩টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ বিপুল পরিমাণ চোরাই মালামাল ও জালিয়াতির নানাবিধ সর’ঞ্জাম উ’দ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশের জালে আটক হওয়া এই প্রতারকের নাম মো. রুবেল খাঁ (২৮)। তিনি নিজেকে পুলিশের এসআই হিসেবে ভুয়া পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে আসছিলেন। একই সাথে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে চোরাই মালামাল সংগ্রহ ও তা ক্রয়-বিক্রয়ের একটি চক্র গড়ে তুলেছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে পুলিশ।
জিএমপি সুত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জিএমপির মহানগর গোয়েন্দা (দক্ষিণ) বিভাগের এসআই মো. হারিছুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গাছা থানার দক্ষিণ খাইলকুর পেয়ারাবাগান রোড এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে। ওই এলাকার আবুল কালাম আজাদের বাড়ির একটি ভাড়া বাসায় ছদ্মবেশে থাকা রুবেল খাঁকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে ডিবি পুলিশ এবং তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। আটকের পর উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে ১টি চোরাই মোটরসাইকেল, ৫টি ল্যাপটপ, ৩টি আধুনিক প্রিন্টার, ৪টি কিবোর্ড, মোটরসাইকেল চুরির বিশেষ মাস্টারকি, হেলমেট এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ব্যবহৃত ওয়াকিটকি সেট, পুলিশ ভেস্ট, হ্যান্ডকাফ, বুট, বেল্ট, ফিল্ড ক্যাপ ও পিস্তল কভার জব্দ করা হয়। এছাড়াও তার হেফাজত থেকে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের সিম ও মেমোরি কার্ডসহ ভুয়া পুলিশ পরিচয়পত্র, বিআরটিএ-এর জাল সিলমোহর, জাল ই-রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও জাল কর পরিশোধ সনদসহ বিপুল পরিমাণ জালিয়াতির আলামত উ’দ্ধার করা হয়।
ডিবি পুলিশ জানায়, প্রাথমিক আটকের পর রুবেল খাঁকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন পয়েন্ট এবং টাঙ্গাইল সদর থানা এলাকায় গভীর রাতে আরও কয়েকটি অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে আরও ২টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে সমর্থ হয় গোয়েন্দা পুলিশ। গাছা থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত রুবেল খাঁন প্রকৃতপক্ষে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন। তিনি স্রেফ পুলিশের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও পোশাক অবৈধভাবে সংগ্রহ করে নিজেকে পুলিশের এসআই পরিচয় দিয়ে বেড়াতেন। একই সাথে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের জাল সিলমোহর ও ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা ও মোটরসাইকেল চোর চক্রের মূল হোতা হিসেবে কাজ করতেন। এই জালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনায় রুবেল খাঁনের বিরুদ্ধে গাছা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য পলাতক সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে ডিবি পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।