গাজীপুর মহানগরীর গাছা মেট্রো থানার মালেকের বাড়ি এলাকায় বৈষম্যবিরোধী জুলাই আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আব্দুর রহিম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করার পর ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে আটক করলেও পরবর্তীতে যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
থানা পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র মারফত জানা যায়, সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতেই আব্দুর রহিমকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দেখা যায় যে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিনে রয়েছেন। গাছা থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আউয়াল এই বিষয়ে জানান, উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পূর্বেই মামলা দায়ের করা হয়েছিল এবং তিনি বর্তমানে জামিনপ্রাপ্ত অবস্থায় আছেন। তদন্ত কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্প্রতি বিএনপিতে যোগদান করেছেন এবং তার মুক্তির পেছনে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীর অনুরোধের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় এনসিপি নেতা আলী নাসের অভিযোগ তুলেছেন যে, এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. গোলাম রব্বানীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তিনি আরও দাবি করেন, এর কিছুদিন পূর্বে মালেকের বাড়ি এলাকায় আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় একজন উপ-পরিদর্শককে (এসআই) প্রত্যাহার করা হয় এবং পরবর্তীতে থানার পূর্ববর্তী অফিসার ইনচার্জকেও ডিবিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের এমন দ্বিমুখী আচরণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একাংশের অভিযোগ, সাধারণ সমর্থক বা নিরীহ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশ তাৎক্ষণিক ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে একই ধরনের পদক্ষেপ দেখা যায় না।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে, আব্দুর রহিম বলেন, আমি কখনো আওয়ামীলীগ করি নাই। আমি ছাত্র জীবন থেকে বিএনপি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।সন্তান মানুষ করতে যেয়ে রাজনীতি থেকে দূরে আছি।
সার্বিক অভিযোগের বিষয়ে গাছা থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ মো. গোলাম রব্বানী জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই আব্দুর রহিমকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তবে বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে আলোচনা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তিনি আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্ত আছেন। মূলত সেই আইনি বিবেচনা ও আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।