গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার মালেকের বাড়ি এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের জেলা প্রতিনিধিকে নির্মমভাবে নির্যাতন করার ঘটনা ঘটেছে। বেসরকারি টেলিভিশন ‘চ্যানেল এস’-এর জেলা প্রতিনিধি (মাল্টিমিডিয়া) জাকারিয়া সিকদার এই বর্বরোচিত হামলার শিকার হন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিককে মারধর, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল এবং নগদ অর্থসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিক জাকারিয়া সিকদার গাজীপুর জেলা কারাগার এলাকা থেকে বোর্ডবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে তিনি বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারেন যে, মালেকের বাড়ি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ইউনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ‘রাজধানী আবাসিক হোটেল’- দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ও অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে। এই তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি ওই আবাসিক হোটেলে যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, সাংবাদিক হোটেলের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার পরপরই সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন উশৃ’ঙ্খল ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক একটি নির্জন কক্ষে অবরুদ্ধ করে ফেলে। এরপর তার ওপর চালানো হয় তীব্র শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। একপর্যায়ে হীন উদ্দেশ্যে তার আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং পকেটে থাকা নগদ অর্থ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্তরা। ঘটনাটি কাউকে জানালে বা আইনি পদক্ষেপ নিলে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও প্রদান করা হয়।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং নির্যাতিত সাংবাদিক জাকারিয়া সিকদারকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার তীব্রতা বিবেচনা করে গাছা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবদুল আউয়াল সরদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার মিলন (১৮), কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ওমর ফারুক (২৯), বগুড়ার নন্দিগ্রাম উপজেলার মধু (২০), কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার শাহ আলম মীর (৪৬) এবং গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কবির ওরফে আব্দুল কাদের (৩৮)।
গাছা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবদুল আউয়াল সরদার গণমাধ্যমকে জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশি তৎপরতা জোরদার করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই কথিত আবাসিক হোটেলটিকে কেন্দ্র করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছিল। সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে একজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় তারা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের জোর দাবি তুলেছেন।