শেরপুরের খরারপাড় থেকে শ্রীবরদী রুটে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া কোনো ঘোষণা ছাড়াই একলাফে তিনগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। যেখানে এই পথের নির্ধারিত ভাড়া মাত্র ৫০ টাকা, সেখানে আজ বুধবার যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ১৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। আকস্মিক ও অস্বাভাবিক এই ভাড়া বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিয়মিত যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং কর্মজীবীরা।
সকাল থেকেই শেরপুর খরারপাড় সিএনজি স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায় শত শত মানুষের উপচে পড়া ভিড় এবং দীর্ঘ অপেক্ষা। যাতায়াতের বিকল্প মাধ্যম না থাকায় নিরুপায় হয়ে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছেন। সেখানে উপস্থিত একাধিক যাত্রী অভিযোগ করে জানান, চালকদের দাবি করা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে রাজি না হলে তারা কোনোভাবেই যাত্রী তুলছেন না। ফলে জরুরি ও দাপ্তরিক কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষকে চরম বৈরী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ভাড়া নৈরাজ্যের শিকার এক ক্ষুব্ধ যাত্রী জানান, মাত্র ৫০ টাকার ভাড়া কীভাবে ১৫০ টাকা নেওয়া হয় তা তাদের বোধগম্য নয়। সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষ এভাবে প্রতিদিন বাড়তি টাকা খরচ করলে পরিবার নিয়ে চলাই কঠিন হয়ে পড়বে। অবিলম্বে এই সিন্ডিকেট ভেঙে না দিলে সাধারণ মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শেরপুর জেলার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এক ধরনের বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য চলছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর তদারকি কিংবা নজরদারি না থাকায় স্ট্যান্ডের কিছু অসাধু চক্র এবং চালকদের সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ইচ্ছেমতো ভাড়া নির্ধারণ ও আদায় করছে। এর আগেও জেলার বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে একাধিক সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এলাকার সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী মহল মনে করছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা কঠোরভাবে কার্যকর করা না হলে সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ আরও অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে। তারা এই রুটে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করাসহ ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। শেরপুর জেলার সর্বস্তরের জনগণ এখন এই চরম ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।