• বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
গাজীপুরে আনসার বাহিনীর সমাবেশ ও দেশের প্রথম জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী বগুড়ায় বিশ্ব মেট্রোলজি দিবস উদযাপন: নির্ভুল পরিমাপের গুরুত্বে জোর বাঘায় শুরু হলো তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা ২০২৬ গাজীপুরে জিলানীর ওপর হামলা: সাংবাদিকদের বিশাল মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার ও ৫ আগস্টের সম্মুখ যোদ্ধা: রাজশাহীতে ছাত্রদল নেতা তপনের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন গাজীপুরে সীমানা নির্ধারণের পরও হয়রানি: কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ পাওনা টাকা চাওয়ায় হোটেল মালিককে ‘চাঁদাবাজ’ সাজানোর অভিযোগ: রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র আব্দুল হামিদ খানের চিরবিদায়: গাজীপুরে শোকের ছায়া গাজীপুরে রেললাইনে গেম খেলাই কাল হলো: এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ প্রা’ণ হারালেন ২ তরুণ রাজশাহীকে ঢেলে সাজানোর অঙ্গীকার: বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের নেতাদের সঙ্গে রাসিক প্রশাসকের মতবিনিময়

গাজীপুরে আনসার বাহিনীর সমাবেশ ও দেশের প্রথম জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেক্স রিপোর্ট / ২৬ Time View
Update : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আরও দক্ষ ও গতিশীল করতে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃ’ঙ্খলা রক্ষা ও অর্পিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই বাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে। আগামী দিনগুলোতে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও আনসার ও ভিডিপি বিশেষ অবদান রাখবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বুধবার (২০ মে) সকাল ১০টায় গাজীপুরের সফিপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ ও ব্যুত্থান মহড়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা ও মূল্যায়ন তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই তিনি বাহিনীর সর্বস্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও তৃণমূল পর্যায়ের সদস্যদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। মহান মুক্তিযুদ্ধে এই বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রায় ৪০ হাজার রাইফেল নিয়ে আনসার সদস্যরা স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এবং দেশের জন্য ৬৭০ জন সদস্য আত্মোৎসর্গ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী গভীর শ্রদ্ধার সাথে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

​দেশের আইনশৃ’ঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা এবং এই বাহিনীর ঐতিহাসিক বিবর্তনের ধারাবাহিকতা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গ্রাম ও নগর পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভিডিপি ও আনসার বাহিনীকে একটি কার্যকর শক্তিতে রূপান্তরের ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় ১৯৯৫ সালে আনসার-ভিডিপি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এই বাহিনী একটি স্বতন্ত্র ও সুশৃঙ্খল বাহিনীর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা লাভ করে। তিনি আরও যোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের এক অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তে থানা পাহারা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা অনন্য সাধারণ ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা প্রদানসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় অবদান রেখে চলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বাহিনীর বর্তমান কর্মপরিধি ও সক্ষমতার চিত্র তুলে ধরে জানান, বর্তমানে ৪৭টি আনসার ব্যাটালিয়নের মধ্যে ১৬টি ব্যাটালিয়ন পার্বত্য চট্টগ্রামে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি, প্রায় ৫২ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি দপ্তর, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন। সামাজিক ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন মোকাবিলা এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমে ভিডিপি প্লাটুনগুলোর মাঠপর্যায়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। তিনি আরও জানান, ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক এবং ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে সদস্যদের কল্যাণে জামানতবিহীন ঋণ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

​বাহিনীর আধুনিকায়ন ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারিগরি প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, জাপানি ভাষা শিক্ষা এবং সিক্স-জি ওয়েল্ডিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সদস্যদের জন্য নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। দেশি-বিদেশি কর্মসংস্থানের সেতুবন্ধন হিসেবে ‘এফ জবস’ নামক একটি বিশেষ জব পোর্টাল চালু করা হয়েছে এবং আনসার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির প্রক্রিয়াও বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনে এই বাহিনীর অসামান্য অর্জনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ গেমসে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ২০০৪ সালে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’-এ ভূষিত হয়। বর্তমানে দেশের ১০টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সুরক্ষায় ৩৭৯ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য নিয়োজিত আছেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, বাহিনীকে যুগোপযোগী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বিভিন্ন প্রবিধান ও বিধিমালা প্রণয়নের কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আনসার ব্যাটালিয়ন বিধিমালা-২০২৬, ভিডিপি বিধিমালা-২০২৬ এবং সদস্য নিয়োগ ও পদোন্নতি বিধিমালা। এছাড়া তৃণমূল তথা উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে উপজেলা আনসার প্রবিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বক্তব্যের পরিশেষে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, আনসার ও ভিডিপি আগামী দিনে একটি সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর, মানবিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় আরও গৌরবময় ভূমিকা পালন করবে।

গাজীপুরের টঙ্গীতে দেশের প্রথম জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

একই সফরে গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীর সাতাইশ চৌরাস্তা সংলগ্ন ধরপাড়া এলাকায় দেশের প্রথম ‘জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষ জনবল তৈরি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে গবেষণা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে ৫৩.৬১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এ বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বুধবার দুপুর ২টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইনস্টিটিউটটির ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেন। একই সঙ্গে তিনি নবনির্মিত ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে একটি স্মারক বৃক্ষরোপণ করেন এবং সেখানকার পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫১ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত টঙ্গী সাতাইশ চৌরাস্তা সংলগ্ন ধরপাড়া মৌজায় প্রায় ৮ দশমিক ২০ একর জমির ওপর এই প্রতিষ্ঠানটি নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পের প্রথম ধাপে একটি আধুনিক একাডেমিক ভবনের ১০ তলার মধ্যে তৃতীয় তলা পর্যন্ত নির্মাণ এবং ৬ তলা বিশিষ্ট আবাসিক হোস্টেল ভবনের তৃতীয় তলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হবে।

​সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত জনবলের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে এই ইনস্টিটিউট জাতীয় পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখানে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জলবায়ুর প্রভাব মূল্যায়ন, জরুরি সাড়া প্রদান ব্যবস্থাপনা এবং মাঠপর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য বিশেষায়িত উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের একটি বিশেষায়িত গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মীদের পেশাগত সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং উপকূলীয় ও বন্যাপ্রবণ অঞ্চলসহ সারা দেশে দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে এটি কার্যকর অবদান রাখবে।

এই গৌরবময় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার এবং গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমানসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের জোরালো আশা, ইনস্টিটিউটটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে দেশের সামগ্রিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও সুসমন্বিত রূপ দিতে অন্যতম সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা