গাজীপুর মহানগরীর ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের জাঝর এলাকায় মাদকসেবীদের বেপরোয়া তাণ্ডবে জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকাশ্যে মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় এক নারী ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশীয় অ’স্ত্র ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তিন নারীকে গুরুতর জখম করার পাশাপাশি শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় তমা আক্তার নামের এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে সুজয় চক্রবর্তী (২৫) ও ফারুক মিয়া (৩৫)-সহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে গাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত রবিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে তমা আক্তার নিজ বাড়িতে গৃহস্থালি কাজ করছিলেন। সেই সময় পাশের বাসার ভাড়াটিয়া ফারুক মিয়ার ঘরে সুজয় চক্রবর্তীসহ কয়েকজন যুবক প্রকাশ্যে মাদক সেবন করছিলেন। মাদকের উৎকট দুর্গন্ধে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়লে তমা আক্তার তাদের এই অসামাজিক কর্মকাণ্ড বন্ধের অনুরোধ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠিসোটা ও লোহার রড নিয়ে তমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বড় বোনকে বাঁচাতে ছোট বোন সুমি (২২) ও মা আজিরন বেগম (৪৫) এগিয়ে এলে তাদেরও বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার একপর্যায়ে ফারুক মিয়ার প্রত্যক্ষ নির্দেশে সুজয় চক্রবর্তী লোহার রড দিয়ে তমা আক্তারকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। এসময় তাকে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং তার গলা ও কানে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে অভিযুক্ত সুজয় চক্রবর্তীর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও তার পরিবারের পক্ষ থেকে সকল অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, সুজয়কে উল্টো মারধর করা হয়েছে, যার ফলে তার মাথায় ৪টি সেলাই লেগেছে এবং তার পকেট থেকে নগদ ৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওয়াহিদ্দুজামান জানান, লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।