
রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের ওপর ন্যাক্কারজনক ও সশ'স্ত্র হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজশাহী। হামলার ঘটনায় জড়িত চিহ্নিত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃ'ষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মহানগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১১টায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে রাজশাহীর বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ সংবাদকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা এই হামলাকে মুক্ত সাংবাদিকতার ওপর চরম আঘাত ও পরিকল্পিত হ'ত্যাকা'ণ্ডচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন। প্রধান ভুক্তভোগী রেজাউল করিম তার বক্তব্যে বলেন, "আমি ব্যক্তি রেজাউল করিম নই, বরং সাংবাদিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে হামলার শিকার হয়েছি। দীর্ঘ দিন ধরে একটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী চক্র ক্লাবের নাম ভাঙিয়ে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। এই অনৈতিক দাবি প্রত্যাখ্যান করায় তারা সশ'স্ত্র অবস্থায় ক্লাবে ঢুকে আমার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হ'ত্যার হুমকি দেয় এবং ধারালো অ'স্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে আমি গুরুতর আহত হই এবং আমার শরীরে ১৩টি সেলাই দিতে হয়েছে।" তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মামলার প্রধান আসামি নূরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরছে না, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সমাবেশে উপস্থিত সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা মাইক্রোবাস ভাড়া করে সুপরিকল্পিতভাবে এই তাণ্ডব চালিয়েছে। রিভারসিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা রাব্বানী জানান, অভিযুক্তরা শুধু প্রকাশ্যেই ঘুরছে না, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় রয়েছে। এর আগে রাজশাহী প্রেসক্লাব থেকে অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। অনতিবিলম্বে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং আসামিদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান বক্তারা।
বোয়ালিয়া মডেল থানায় ইতিমধ্যে নূরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় সাংবাদিকরা হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন। তারা জানান, অতি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে রাজশাহীতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। স'ন্ত্রাসীদের কাছে সাংবাদিক সমাজ কোনোভাবেই মাথা নত করবে না বলে তারা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ঘটনার বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. জিললুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে আরএমপি পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা পুলিশসহ একাধিক টিম কাজ করছে। খুব দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ রফিকুল ইসলাম, জি পি গ ২১/১, মহাখালী স্কুল রোড, বনানী, গুলশান ১২১২ ,ঢাকা। ফোন -০১৭১১৯৮৫৮৩৫, বার্তা ও বিজ্ঞাপন-০১৭১৩৪৭৬৯৭০, ইমেইল-sottounmochon75@gmail.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।